Home

Dhaghat School And College

শিক্ষার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে কেবল পরীক্ষার নম্বর নয়, গড়ে ওঠে যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ। ক্লাস ৬ থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে আমরা আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি, প্রযুক্তিবান্ধব ক্লাসরুম এবং সমৃদ্ধ সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের তৈরি করি জীবনের বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য।

 

একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস, একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, এবং এমন একটি পাঠ্যক্রম যা পড়ার পাশাপাশি শেখায় কীভাবে বাঁচতে হয়, ভাবতে হয়, ও সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির এই যাত্রাপথে আমরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে গুরুত্ব সহকারে দেখি এবং তাকে সফল করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। আপনার শিশু এখানে শুধু পড়তে আসবে না—বরং নিজের সেরা সংস্করণটিকে আবিষ্কার করবে।

Current Students
0 +
Qualified Staff
0 +
Clubs & Activities
0 +
Active PTFA Members
0 +

সভাপতির বাণী
“শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড। কোনো দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় তার নাগরিকরা শিক্ষিত না হলে। Dhaghat School And College সেই শিক্ষার আলো ছড়ানোর একটি পুরনো ও বিশ্বস্ত ঠিকানা। ১৯১৮ সালের ইতিহাস আমাদের দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে। আমরা চাই এখানকার প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন বইয়ের বাইরেও জীবনের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও দশের সেবক হিসেবে গড়ে ওঠে। আমি অভিভাবকদের সহযোগিতা ও শিক্ষার্থদের একাগ্রতা প্রত্যাশা করি। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার আসনে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।”
— সভাপতি,
Dhaghat School And College

আমাদের পাঠ্যক্রম: শিক্ষার পূর্ণাঙ্গ রূপ

Dhaghat School And College-এর পাঠ্যক্রম কেবল পরীক্ষার প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি শিক্ষার্থীদের যুক্তিবোধ, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও ব্যবহারিক দক্ষতায় গড়ে তোলার এক সমন্বিত পদ্ধতি। জাতীয় শিক্ষাক্রমের নির্দেশনা অনুসরণ করে আমরা ক্লাস ৬ থেকে ১২ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করি। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক—তিনটি গ্রুপেই পাঠ্যক্রম সাজানো হয়েছে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশকে প্রাধান্য দিয়ে।

আমাদের পাঠ্যক্রমের মূলভিত্তি: জাতীয় শিক্ষাক্রম + ব্যবহারিক শিক্ষা + মূল্যবোধ শিক্ষা

বিজ্ঞান গ্রুপ

জ্ঞানের সীমারেখা পেরিয়ে আবিষ্কারের নেশা। Dhaghat School And College-এর বিজ্ঞান বিভাগ শিক্ষার্থীদের যুক্তি, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও পরীক্ষানিরীক্ষার দক্ষতায় দক্ষ করে তোলে। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গণিতের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে আগামীর প্রকৌশলী, চিকিৎসক ও গবেষক। আমাদের বৈশিষ্ট্য: আধুনিক ল্যাব, দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলী ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং।

ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপ

উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখো, কর্পোরেট দুনিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখো। Dhaghat School And College-এর ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপ শিক্ষার্থীদের তৈরি করে হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি ও বাণিজ্যের জটিল জগতের জন্য। এখানে গড়ে ওঠে আগামীর ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, উদ্যোক্তা ও কর্পোরেট নেতা। আমাদের বৈশিষ্ট্য: ব্যবহারিক জ্ঞান, কেস স্টাডি, ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং।

মানবিক গ্রুপ

চিন্তার গভীরতা, মননের পরিসর ও মানবিক মূল্যবোধের জায়গা। Dhaghat School And College-এর মানবিক গ্রুপ শিক্ষার্থীদের তৈরি করে সমাজ, রাষ্ট্র, ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতির জটিল জগতকে বোঝার জন্য। এখানে গড়ে ওঠে আগামীর আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিক। আমাদের বৈশিষ্ট্য: সমৃদ্ধ পাঠাগার, বিতর্ক চর্চা, গবেষণাধর্মী শিক্ষা ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং।

লাইব্রেরি

জ্ঞানের ভাণ্ডার, নীরব শিক্ষকের আসন। Dhaghat School And College-এর সমৃদ্ধ লাইব্রেরিতে রয়েছে হাজার হাজার বই, গবেষণাপত্র, সাময়িকী ও ডিজিটাল রিসোর্স। এখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই অর্জন করে না; গড়ে তোলে পড়ার অভ্যাস, গবেষণার মনোভাব ও যুক্তিবোধ। আমাদের বৈশিষ্ট্য: বিশাল সংগ্রহ, রিডিং কর্নার, ইন্টারনেট সুবিধা ও নির্দলীয় পরিবেশ।

গণিত

যুক্তির ভাষা, সমাধানের শক্তি। Dhaghat School And College-এ গণিত শুধুমাত্র সূত্র ও সমীকরণ মুখস্থ করানোর নাম নয়; এটি শিক্ষার্থীদের চিন্তার জগৎকে প্রসারিত করে, বিশ্লেষণী দক্ষতা বাড়ায় এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের সক্ষমতা তৈরি করে। এখানে গণিত হয় সহজ, প্রাঞ্জল ও উপভোগ্য। আমাদের বৈশিষ্ট্য: দক্ষ শিক্ষক, নিয়মিত অনুশীলন, গণিত ক্লাব ও অলিম্পিয়াড প্রস্তুতি।

ভাষা শিক্ষা

ভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়; এটি চিন্তার বাহন, সৃজনশীলতার আধার ও যোগাযোগের সেতু। Dhaghat School And College-এ বাংলা ও ইংরেজি ভাষাকে শেখানো হয় সহজ, প্রাঞ্জল ও ব্যবহারিক পদ্ধতিতে। এখানে শিক্ষার্থীরা দক্ষ হয় পড়া, লেখা, শোনা ও বলার চারটি দক্ষতায়—পাশাপাশি গড়ে তোলে আত্মবিশ্বাস ও প্রকাশভঙ্গি। আমাদের বৈশিষ্ট্য: ভাষা ল্যাব, বিতর্ক চর্চা, উপস্থাপনা প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত অনুশীলন।

আমাদের সহশিক্ষা কার্যক্রম: প্রতিভার বিকাশ, দক্ষতার উৎকর্ষ

বিতর্ক ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা:

নিয়মিত বাংলা ও ইংরেজি বিতর্ক আয়োজিত হয়। শিক্ষার্থীরা যুক্তি, উপস্থাপনা ও স্পষ্টভাষণে দক্ষতা অর্জন করে। এছাড়া থাকে বক্তৃতা, আবৃত্তি ও কুইজ প্রতিযোগিতা।

ক্রীড়া ও শারীরিক শিক্ষা:

বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আন্তঃহাউস ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, দৌড়, উচ্চলম্ফ প্রভৃতি আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়। খেলাধুলা তাদের শেখায় কীভাবে জয়-পরাজয় মেনে নিতে হয় এবং দলগতভাবে কাজ করতে হয়।

সাংস্কৃতিক কার্যক্রম:

বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্য-গীত, নাটক, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এটি শিক্ষার্থীদের কলা-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তোলে এবং মননশীলতা বাড়ায়।

বিজ্ঞান মেলা ও জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা:

বিজ্ঞান মেলা, প্রকল্প প্রদর্শনী, গণিত অলিম্পিয়াড ও কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী ও যুক্তিবাদী করে গড়ে তোলা হয়। বিজ্ঞান গ্রুপের শিক্ষার্থীরা এখানে নিজেদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পায়।

বাণিজ্য মেলা ও উদ্যোক্তা চর্চা:

ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় বাণিজ্য মেলা, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রতিযোগিতা ও হাটদিন। এটি ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শিক্ষা সফর ও গবেষণা সফর:

শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর শিক্ষাসফর, ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন ও গবেষণামূলক ক্ষেত্রসমীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা তাদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে।

স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট:

স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল নাগরিক, নেতৃত্বের গুণ ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করে। শিবির, প্রশিক্ষণ ও সেবামূলক কাজের আয়োজন নিয়মিত হয়।

স্কুল ম্যাগাজিন ও পত্রিকা:

শিক্ষার্থীদের লেখা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি ও সৃজনশীল লেখা প্রকাশিত হয় বার্ষিক ম্যাগাজিন ও দেয়াল পত্রিকায়। এটি সাহিত্যচর্চার উৎসাহ বাড়ায়।

ধলঘাট স্কুল এন্ড কলেজ: ১৯১৮ থেকে এক অনন্য যাত্রা

প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট:তখন বর্তমান ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের তীব্র স্রোত। অবিভক্ত ভারতের বাংলা প্রদেশের প্রত্যন্ত জনপদ ধলঘাটে শিক্ষার আলো পৌঁছানো ছিল তৎকালীন শিক্ষানুরাগী ও দানবীর ব্যক্তিদের এক ডাক। ১৯১৮ সালের ১ জানুয়ারি অতি সীমিত পরিসরে, মোটামুটি কিছু টিনের চালাঘর আর মাটির মেঝে নিয়ে যাত্রা শুরু করে ধলঘাট উচ্চ বিদ্যালয়। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে এ অঞ্চলের সন্তানদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।

নামকরণ ও বিবর্তন:প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় এলাকার নাম অনুসারে—ধলঘাট। স্থানীয়দের মুখে মুখে এটি ‘ধলঘাট স্কুল’ নামেই পরিচিত ছিল। বর্তমানে মাধ্যমিকের পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক স্তর চালু হওয়ায় নামকরণ করা হয় “ধলঘাট স্কুল এন্ড কলেজ”।

ঐতিহ্য ও কৃতিত্ব:একের পর এক প্রজন্মের পদচারণায় ধলঘাট স্কুল এন্ড কলেজ হয়ে উঠেছে জ্ঞানের এক বিশুদ্ধ পীঠস্থান। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কেবল বোর্ড পরীক্ষাতেই নয়, জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়, ক্রীড়াঙ্গনে আর সংস্কৃতিচর্চায় সুনাম কুড়িয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠানটি তার গৌরবোজ্জ্বল ধারা অব্যাহত রেখেছে।

বর্তমান অবস্থা:একসময়ের টিনশেড ঘর বর্তমানে পরিণত হয়েছে বহুতল আধুনিক একাডেমিক ভবনে। এখন রয়েছে বিজ্ঞান ল্যাব, কম্পিউটার ল্যাব, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি ও খেলার মাঠ। ক্লাস ৬ থেকে ১২ পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান। স্থাপনার ১০০ বছর পেরিয়ে এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ধলঘাট স্কুল এন্ড কলেজ।

অঙ্গীকার:ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে, অতীতের গৌরব ধারণ করে বর্তমান প্রজন্মকে গড়ে তোলাই আমাদের ব্রত। আগামীর পৃথিবীতে নিজেদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষার্থীরা যেন পায় যথাযথ দিকনির্দেশনা—সেটুকু নিশ্চিত করাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।